September 23, 2021

Sylhet Amar Sylhet

www.sylhetamarsylhet.com

মোগলাবাজারে পুত্রের হাতে পিতা-মাতা সহ ৪ জন আহত

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা মোগলাবাজার থানাধিন উলাল মহল গ্রামের পুত্রের হাতে পিতা, মাতা ও দু’ চাচা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে আহত উলাল মহল গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে অবসর প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ (৭১) মোগলাবাজার থানায় গত ১৪ জুলাই তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল আমিন (৩০)কে আসামী করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

এজহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক আব্দুল ওয়াদুদ পঙ্গু অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল আমিন প্রায় ৫/৬ বছর ধরে স্থানীয় বখাটেদের সাথে মিলিত হয়ে নানা অপকর্মে জড়িত। স্থানীয় লোকদের সাথে প্রায় সময় দুর্ব্যবহার করায় অনেক বিচার সালিশ হয়েছে। আসামী প্রায় সময় তার পিতা ও মাতার কাছে নেশা করার জন্য টাকা চাইতো। টাকা না দিলে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে প্রাণে মারার হুমকী ধামকি দিতো। মান সম্মানের ভয়ে তার পিতা সবকিছু সহ্য করে আসছিলেন।

গত ১২ জুলাই রোববার দুপুর অনুমান ২ টায় আসামী লোহার রড ও চাকু নিয়ে এসে বাদীর ব্যবহৃত পল্লী বিদ্যুতের লাইন সরানোর জন্য জোরেবলে হুমকি দিতে থাকে এবং গালি গালাজ করতে থাকে। সে সময় বাদী ঘরের বারান্দায় বসা অবস্থায় আসামীর গালিগালাজ ও হুমকীর কারণ জিজ্ঞেস করার সাথে সাথে আসামী উত্তেজিত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজ করে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে পিতার নিকট গেলে তার মা আম্বিয়া খানম (৬০) তার পিতাকে প্রাণে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসলে আসামী আব্দুল্লাহ আল আমিন তার মাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। তাদের আর্তচিৎকার শোনে বাদীর ছোট ভাই আব্দুল মুকিত বাবুল (৫৫) তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে আসামী লোহার রড দিয়ে প্রাণে হত্যার উদ্দ্যেশে মাথা লক্ষ্য করে বাড়ি মারলে তার মাথার ডান পাশে পড়ে মারাত্মক ফাটা রক্তাক্ত জখম হয়। আব্দুল মুকিত বাবুল মাটিতে পড়ে গেলে আসামী রড দিয়ে তার শরীরের এলোপাতাড়ি আঘাত করে। তাদের চিৎকার শুনে তাদের ভাই আব্দুল মুক্তাদির ফারুক (৫৭) রক্ষা করতে আসলে আসামী তার হাতে থাকা রড দিয়া প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করিয়া বাড়ি মারলে উক্ত আঘাত তার মাথার ডান পাশের ডান কানের উপরে পড়িয়া মারাত্মক ফাটা রক্তাক্ত জখম হয়। এছাড়াও রডের আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে চেচাঁফুলা জখম হয়।

আহতদের আর্তচিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আসামীর কবল হতে তাদেরকে রক্ষা করে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন।

আলাপকালে মোগলাবাজার থানার ওসি সাহাবুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।