September 23, 2021

Sylhet Amar Sylhet

www.sylhetamarsylhet.com

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ।ছবি: সংগৃহীত

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ মারা গেছেন

অনলাইন ডেস্ক :

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ (৭৪) মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। শনিবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার ‍মৃত্যু হয়। প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব শেখ নাজমুল হক সৈকত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি হলেন বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার প্রথম কোনো সদস্য, যিনি কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত থাকা অবস্থায় মারা যান।
তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মারা যাওয়ার পর ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিলো। রবিবার সকালে রিপোর্ট পাওয়া যায়। যেখানে পিসিআর টেস্টে তার করোনা ধরা পড়ে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর গণসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার রাত ১০টায়  ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তার মৃত্যু ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। শেখ আবদুল্লাহ টেকনোক্র্যাট হিসেবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন।

শেখ আব্দুল্লাহ ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ ১৯৪৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতী নদীর তীরবর্তী কেকানিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শেখ মো. মতিউর রহমান এবং মাতা মোসাম্মৎ রাবেয়া খাতুন। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

শেখ মো. আব্দুল্লাহ স্থানীয় গওহরডাঙ্গা হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে কোরআনে হেফজের মাধ্যমে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। এরপর একই মাদ্রাসার কওমি ধারায় পড়াশোনা করেন। ১৯৬১ সালে মেট্রিক, ১৯৬৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৬৬ সালে বি কম (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে এম কম এবং ১৯৭৪ সালে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৭ সালে ঢাকা সেন্ট্রাল ‘ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রিও নেন শেখ আব্দুল্লাহ।

শিক্ষা জীবন শেষে সুলতানশাহী কেকানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে আইনজীবী হিসেবে গোপালগঞ্জ জজ কোর্ট ও ঢাকা জজ কোর্টে প্র্যাকটিস করেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করে ছাত্রজীবনেই রাজনীতির সাথে যুক্ত হন আব্দুল্লাহ। যুব লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে তিনি আওয়ামী যুব লীগে যোগ দেন। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী যুব লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিরও দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এরপর কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এরপর ১৯৭০ এর নির্বাচনে স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িত হয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ব্যাপক নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

এরপর ১৯৭১ সালে মুজিব বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে রাজনীতিতে ঝুঁকে পড়েন শেখ আব্দুল্লাহ। দীর্ঘদিন গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ আওয়ামী লীগের বিগত কেন্দ্রীয় কমিটিতে ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ।