October 23, 2021

Sylhet Amar Sylhet

www.sylhetamarsylhet.com

সিলেটে ‘রেড জোন’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে অভিযানে মেয়র আরিফ

করোনাভাইরাসের ‘রেড জোন’ সিলেটে সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।করোনায় আক্রান্ত-মৃত্যু বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মৃত্যুর মিছিলে চিকিৎসক, ব্যবসায়ীও রয়েছেন। এ পর্যন্ত এ সিলেট নগরীসহ জেলায় ৯৩৯ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে, যা সিলেট বিভাগের তিন জেলার চেয়ে দ্বিগুণের চেয়ের বেশি।আর বিভাগের মোট মারা যাওয়া ৩৭জনের মধ্যে ২৮জন-ই এ মহানগর ও জেলার বাসিন্দা।কেবল মহানগর ও সদরেই করোনা রোগী মিলেছে প্রায় সাড়ে ৫শ’।

এমতাবস্থায় নগরবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে ফেরাতে কঠোর হলেন সিটি করপোরেশনের আরিফুল হক চৌধুরী।করোনায় আক্রান্ত স্ত্রীকে আইসোলেশনে রেখে মাঠে নামলেন তিনি।মঙ্গলবার সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নগরীর বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজার এলাকায় রাস্তা ও ফুটপাতে অভিযান চালান।ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে পরিচ্ছন্ন করেন ফুটপাত।জব্দ করে নেয়া হয় ফুটপাতে বসা ভাসমান ব্যবসায়ীদের মালামালও। এসময় করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো হয় রাস্তায়।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর মেয়র ছুটে যান নগরীর হাসান মার্কেট হকার্স ও সিটি সুপার মার্কেটে।প্রতিটি দোকান ঘুরে এক সপ্তাহের জন্য মার্কেট বন্ধ রাখার আহবান জানান। তাঁর এ আহবানে সাড়া দেন ওইসব মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও।

এ সময় মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের সতর্ক করে তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসা-বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন।স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অটোরিকশাসহ গণপরিবহণে চলা যাত্রীদেরও গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন।চালকদের এ ব্যাপারে সতর্ক করেন।

এ ব্যাপারে মেয়র বলেন, সিলেটে করোনাভাইরাস রোধে এখনই শক্ত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হবে। এই মুহুর্তে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা দরকার।বেঁচে থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কেনাকাটা-সবই হবে।সিলেট নগরীতেই সাড়ে ৫শ’জন করোনা আক্রান্ত উল্লেখ করে তিনি সরকারের কাছে সিলেটের জন্য ৫০০ শয্যার করোনা হাসপাতাল বরাদ্দের দাবি জানান।বলেন, প্রাইভেট ক্লিনিক-হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত দরিদ্র রোগীর পক্ষে চিকিৎসা ব্যয় মেটনো সম্ভব হয়।করোনা হাসপাতাল বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি তুলতে সিলেটের জনপ্রতিনিধিদের প্রতিও আহবান মেয়র আরিফ।

এদিকে সিলেটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কঠোর হচ্ছে প্রশাসনও। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে মাঠে নেমেছে জেলা জেলা প্রশাসনের বিশেষ আভিযানিক টিম। এরমধ্যে সিলেট মহানগরীতে রয়েছে ৭টি মোবাইল টিম। আর জেলার সব উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে (ইউএনও) সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ নিয়ে বিশেষ টিম।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট (এডিএম) এ.এইচ.এম মাসুদুর রহমান বলেন, মোবাইল টিম আগের নির্দেশনার ভিত্তিতেই এখন ‘রেড জোন’ সিলেটে অভিযান চালাবে। এ সময় অভিযানকারী টিমের নেতৃত্ব দানকারী ম্যাজিস্ট্রেট লোকজনকে বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে না হতে নিরুৎসাহিত করবেন এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনকারীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবেন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় মঙ্গলবার থেকে এসএমপি’র ৬টি থানা পুলিশের সহায়তায় সিলেট মহানগর এলাকায় ৭টি টিমে ভাগ হয়ে জোরদার অভিযান পরিচালনা করবে জেলা প্রশাসন। এছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে কঠোরভাবে অভিযান চালাতে নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।