September 26, 2021

Sylhet Amar Sylhet

www.sylhetamarsylhet.com

দক্ষিণ সুরমায় প্রতিপক্ষের হামলায় শিশু, মহিলাসহ গুরুত্বর আহত ৫ ॥ মামলা দায়ের

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার ইউনিয়নের গাজিরপাড়ায় ভুমি বিরুদের জের দরে প্রতিপক্ষের হামলায় শিশু, মহিলা সহ ৫ জন গুরুত্বর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১০ মে রোববার সকাল সোয়া ১০টায়।

হামলার ঘটনায় গাজিরপাড়া গ্রামের হাবিব উল্ল্যার ছেলে জাকারিয়া আহমদ বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ০৯। তাং-১১/০৫/২০২০ ইং।

মামলার আসামীরা হচ্ছেন গাজিরপাড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ’র ছেলে জুবায়ের রাফি (২৩) ও মেয়ে তানিয়া বেগম (২১), মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল্লাহ (৫০), আব্দুল্লা’র স্ত্রী হোসনা বেগম (৪৫), সহ আরো ২ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জাকারিয়া আহমদের পিতা হাবিব উল্ল্যা তার বাড়ির চারা বিছরায় মুকি চাষাবাদের জন্য জমি আবাদ করছেন। এই সময় বিবাদী আব্দ্ল্লুাহ ও তার ছেলে জুবায়ের রাফী কেন জমিতে চাষাবাদ করছেন বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এসময় বাদির মা গালমন্দর কারণ জানতে চাইলে আসামী গংরা উত্তেজিত হয়ে পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে ধারালো রামদা, লোহার রড, কাঠের রুল, ক্রিকেট ষ্ট্যাম্প ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়। এ সময় আসামীরা ঘরে ডুকে চিৎকার করে বলে সবটিকে দুনিয়া থেকে প্রাণে শেষ করে ফেলব বলেই তারা এলোপাতাড়ি হামলা শুরু করে। এ সময় তারা ৯ বছরের শিশু আমিনাকে গলায় চেপে ধরে শ্বাস রুদ্ধকরে হত্যার চেষ্টা করে। হামলায় জাকারিয়া আহমদের পিতা, মাতা, ভাই ও ছোট বোন গুরুত্বর আহত হয়েছেন।
হামলা করে ক্ষান্ত হননী, আসামিরা বাদিদের ঘরে ডুকে লুটপাট করে। তাদের ঘরের সকেছে থাকা দেড় ভরি ওজনের ৭৫ হাজার টাকা মুল্যর স্বর্ণের গলার হার ও ৩০ হাজার ৫০০টাকা লুট করে নিয়ে যায় আসামীরা।

এ সময় আহতদের আর্ত চিৎকার শুনে প্রতিবেশীর এগিয়ে এসে আসামিদের কবল থেকে উদ্বার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আহত জাকারিয়া আহমদের মাথায় ৫টা সেলাই, তার পিতা হাবিব উল্ল্যা’র মাথায় ৬টা সেলাই, মা ভাই ও বোনের শরীর ও মাথায় সেলাই সহ নিলাফুলা জখম রয়েছে।

চিকিৎসা নিয়ে আহতরা বাড়িতে আসলো আসামী জুবায়ের রাফি পুনররায় তাদেরকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে বলে, আমি সরকারি চাকরি করি তোমাররে মারছি আরও মারব। আমাদেরকে তোমরা কিছুই করতে পারবেনা, আইন-বিচার সবই আমার পক্ষে। এভাবে বার বার প্রাণে মারার হুমকির কারণে জাকারিয়া আহমদের পরিবারের সবাই প্রাণে বাঁচতে বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়দের বাড়িতে রয়েছেন। যেকোন সময় মামলার আসামীরা জাকারিয়া ও তার পরিবারের লোকদের ক্ষতি সাধন বা প্রাণে মারতে পারে। এমতাবস্থায় তারা হত্যার হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।

আলাপকালে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার হোসেন মামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন আসামীদের গ্রেফতার করতে পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।