September 26, 2021

Sylhet Amar Sylhet

www.sylhetamarsylhet.com

দাউদপুরে সরকারি রাস্তা বন্ধ করে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি || মামলা দায়ের

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানাধীন দাউদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দাউদপুরে সরকারি রাস্তা বন্ধ করে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে পশ্চিম দাউদপুর গ্রামের মৃত কটন চন্দের মেয়ে রিনা রানী চন্দ বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাত রেখে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং -৬, তাং-০৭/০৫/২০২০ ইং।
মামলার আসামীরা হচ্ছেন পশ্চিম দাউদপুর গ্রামের মৃত বরেন্দ্র পালের ছেলে নিরঞ্জন পাল (৩৪), সুরেন পাল (৪৮), সুরঞ্জন পাল (৩৭), সুরেন পালের ছেলে সুইট পাল (২৫)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার ১ নং আসামি নিরঞ্জন পাল গংরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাস্তান প্রকৃতির লোক। এলাকায় তারা ত্রাসের রাজ্য সৃষ্টি করে বিভিন্ন সময় অপরাধ মুলক কাজে লিপ্ত থাকে।
বাদী রিনা রানী চন্দ ও বিবাদীগনের রাস্তা সরকারি অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়। এই রাস্তা দিয়ে তারা দীর্ঘদিন যাবত চলাচল করে আসছেন। গত ৩০ মার্চ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাদীর বাড়ির রাস্তাটি বন্ধ করে টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে দেয় নিরঞ্জন ও তার পরিবারের লোকজন। এ ব্যাপারে মামলার বাদীর কাকাত ভাই শিপুল চন্দ মোগলাবাজার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৬ এপ্রিল প্রসিকিশন রিপোর্ট প্রধান করে। যার নং- এফ আইআর-৩৫/২০২০। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আদালত বন্ধ থাকায় বাদী রিনা রানী চন্দ নিরুপায় হয়ে বৃহত্তর দাউদপুর এলাকার ৫ পঞ্চায়েতের শরণাপন্ন হন। এতে পঞ্চায়েতের মুরব্বিরা উভয় পক্ষকে ওই রাস্তায় দাউদিয়া গৌছ উদ্দিন মাদ্রাসার ভূমি হতে দানকৃত জায়গাসহ নিরঞ্জন কর্তৃক বন্ধ করা রাস্তা খোলে দিয়ে চলাচলের ব্যবস্হা করে বাড়ির সীমানাসহ রাস্তায় পাকা পিলার দ্বারা চিহ্নিত করে দেন মুরব্বিয়ানরা।
গত ৩ মে রাতে নিরঞ্জন পালসহ আসামিরা বাদী রিনার বাড়িতে এসে হামলা চালায়। হামলায় রিনা রানী চন্দ, সত্যচন্দ ও শিপুল চন্দ আহত হন। এসময় আসামিরা অশ্লীল ভাষায় বলে পঞ্চায়েতের বাবাদের এখন আসতে বল। এক পর্যায়ে নিরঞ্জন পাল উত্তেজিত হয়ে বলে, ওই রাস্তা দিয়ে হাটার সাধ মিটিয়ে দেবে, আর নাহয় তিন দিনের মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে। চাঁদা না দিলে বাদীর সবাইকে বাড়ি ছেড়ে যাবার হুমকি দেয় তারা। রিনাদের আাত্নচিৎকারে বাড়ির অন্যান্ন লোকজন আসলে আসামিরা বাড়ির সীমানা ও রাস্তা চিহ্নিত পাকা পিলার তুলে ফেলে। এসময় আসামিরা বাদীকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে প্রাণে হত্যা ও লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এমতাবস্থায় রিনা রানী চন্দ বাড়ির লোকজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আসামীরা যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটাতে পারে। এ ব্যাপারে নীরহ পরিবার প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।
এ ব্যাবারে দাউদপুরের বিশিষ্ট মুরব্বি সওকত আহমদ চৌধুরী বলেন, রাস্তার বিরোধের ব্যাপারে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও ৫ পনঞ্চায়েতের মুরব্বিরা সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশ হয়। সালিশে উভয় পক্ষ সায় দিলে মুরব্বিরা পাকার পিলার দিয়ে সীমানা চিহ্নিত করে দেন। কিন্তু রাতে আধারে সুরঞ্জনের পরিবাররা পাকার পিলার তুলে দেয়।
আলাপকালে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার হোসেন বলেন, মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে থানা পুলিশ।