September 19, 2021

Sylhet Amar Sylhet

www.sylhetamarsylhet.com

করোনা ভাইরাসের প্রতীকি ছবি

করোনা: সিলেটে ‘হটস্পট’ ঘিরেই ভয়

সিলেটে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয় গেল ৫ এপ্রিল। এরপর ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত রোগী ছিল ৭ জন। পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে ২০ এপ্রিল থেকে। ওই দিন একসাথে হবিগঞ্জে সনাক্ত হন ১০ রোগী। হবিগঞ্জই এখন সিলেট বিভাগের ‘হটস্পট’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই হটস্পট ঘিরেই সিলেট বিভাগে করোনা পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাওয়ার ভয় আর শঙ্কা কাজ করছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগে এখনও পর্যন্ত ৭৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১২ জন, সুনামগঞ্জে ১৪ জন, মৌলভীবাজারে ৬ জন এবং হবিগঞ্জে ৪৭ জন রোগী রয়েছেন। স্পষ্টত, সিলেট বিভাগে হবিগঞ্জই ‘রেড জোন’ বা ‘হটস্পট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মূলত যেসব এলাকায় করোনার সংক্রমণ বেশি বা যে এলাকা থেকে করোনা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা বেশি, সে এলাকাকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তথ্য বলছে, সিলেট বিভাগে গেল ৫ এপ্রিল করোনাক্রান্ত প্রথম রোগী সনাক্ত হন ওসমানী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন। ১৫ এপ্রিল তিনি মারা যান।

মঈন উদ্দিন আক্রান্ত হওয়ার পর ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সিলেট বিভাগের চার জেলায় করোনা রোগী ছিলেন মাত্র ৭ জন। পরের ৯ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন আরো ৭০ জন!

জানা গেছে, ২০ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলায় সনাক্ত হন ১০ জন। পরদিন আরো দুই আক্রান্ত ব্যক্তি সনাক্ত হন হবিগঞ্জের লাখাই ও আজমিরীগঞ্জে।

গেল ২২ এপ্রিল সিলেটে ১৩ জন রোগী সনাক্ত হন। তন্মধ্যে হবিগঞ্জ জেলার ৫ জন। এছাড়া সুনামগঞ্জের ৪ জন, সিলেট ও মৌলভীবাজারের ২ জন করে। গত ২৩ এপ্রিল সিলেট বিভাগে একদিনে ১৬ জন করোনাক্রান্ত রোগী ধরা পড়েন। তন্মধ্যে সিলেটের ৫ জন, সুনামগঞ্জের ৮ জন ও হবিগঞ্জের ৩ জন রয়েছেন।

গত ২৪ এপ্রিল রোগী সনাক্ত হন ৮ জন। এর মধ্যে হবিগঞ্জের ৫ জন, মৌলভীবাজারের ২ জন ও সুনামগঞ্জের ১ জন রয়েছেন। সর্বশেষ গতকাল শনিবার হবিগঞ্জের ২১ জন এবং মৌলভীবাজারের একজন করোনা পজিটিভ হিসেবে সনাক্ত হয়েছেন।

তথ্যানুসারে, হবিগঞ্জে হু হু করে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ায় সিলেট বিভাগে মোট রোগীর সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে গেছে। এখন প্রতিদিন হবিগঞ্জে আক্রান্ত ব্যক্তি সনাক্ত হচ্ছেন। হবিগঞ্জে সংক্রমণ বেশি হওয়ায় এবং সংক্রমণের হার বাড়তে থাকায় সিলেট বিভাগের মধ্যে এ জেলাকে ‘হটস্পট’ হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান সিলেটভিউকে বলেন, ‘হবিগঞ্জকে এখন আমরা হটস্পট হিসেবে বিবেচনা করতেই পারি। মূলত দুটি কারণে হবিগঞ্জে করোনার সংক্রমণ বেশি। প্রথমত, লকডাউনের পরও ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রচুর লোক হবিগঞ্জে এসেছে। দ্বিতীয়ত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একজন ইসলামী চিন্তাবিদের জানাজায় হবিগঞ্জ থেকে প্রচুর লোক গিয়েছিলেন। এ দুই কারণেই হবিগঞ্জে সংক্রমণের হার বেশি ও বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘লকডাউনের পর সিলেটের বাইরে থেকে আসা অনেকেই তথ্য লুকোচ্ছে। অনেকেই জানে না যে তিনি নিজে আক্রান্ত। ফলে অবাধে চলাফেরা করছেন। আবার অনেকের মধ্যে এই মানসিকতাও দেখা যাচ্ছে, করোনা হয়েছে তো কি হয়েছে! আমাদের মানসিকতার বদল জরুরি। সতর্ক হতে হবে, নইলে বিপদ।’