September 23, 2021

Sylhet Amar Sylhet

www.sylhetamarsylhet.com

নগরীর সাগরদিঘিরপাড়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষে হামলায় ৬ জন আহত

সিলেট নগরীর পূর্ব সাগরদিঘিরপাড়ের একটি লেডিস টেইসলার্সে আড্ডা দিতে নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের ৬ জন আহত। এদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা গুরুতর। গুরুতর আহত ২ জন সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় পূর্ব সাগরদিঘিরপাড়ের ৩নং রোডে, ৩/৮নং বাসার সামনে।

এ ব্যাপারে সিলেট নগরীর পূর্ব সাগরদিঘিরপাড়ের ৩নং রোডের ৩/৮নং বাসার বাসিন্দা মৃত হিলাল উদ্দিনের ছেলে আহত মোঃ দুলাল মিয়া বাদী হয়ে বর্তমান ঠিকানা সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানাধিন পূর্ব সাগরদিঘিরপাড়ের ১৩নং বাসার বাসিন্দা, স্থানীয় ঠিকানা সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানাধিন আলমপুর নিবাসী মৃত আফরুজ মিয়ার ছেলে মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ময়না, ইকবাল মিয়া, সোহেল মিয়া, লিটন ও রিপন মিয়াকে আসামী করে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ১১, তারিখ- ১১-০৪-২০২০ইংরেজি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী ও বিবাদী পাশাপাশি বাসায় থাকেন। তাদের বাসার সামনে ফাহিমা টেইলার্স নামে একটি লেডিস টেইলার্স রয়েছে। সেই টেইলার্সে লাকী নামিয়া একজন মহিলা কাজ করেন। গত ৮ এপ্রিল দুপুর ১২টার সময় বিবাদী মোঃ ময়না মিয়া টেইলার্সে মধ্যে বসে আড্ডা দিচ্ছে। বাদী ময়নাকে আড্ডা দিতে নিষেধ করলে সে বাদীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকী প্রদর্শন করে চলে যায়। এরই জের ধরে গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় বাদী দুলাল মিয়া বাসা প্রবেশের সময় আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা সমূহ বিবাদীগণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বে-আইন জনতাবদ্ধে বাদীর পথরোধ করে ১নং বিবাদীর সাজ্জাদ হোসেন ময়না নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা চালায়। বিবাদীদের লোহার পাইপের আঘাত বাদীর মাথা ফেটে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয় এবং ধারালো চাকুর গাইয়ে বাদীর বুকের বাম পাশে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় বাদীর চিৎকার শোনে তার চাচাতো ভাই মাসুক মিয়া (৫৫) বাদীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে বিবাদীগণ তাকেও ধারালো দা দিয়ে কোপ ও চাকু দিয়ে গাই মেরে রক্তাক্ত জখম করে। বাদী ও চাচাতো ভাইয়ের চিৎকার শোনে বাদীর ভাগিনা কামরান মিয়া, বড় ভাই ছায়েদ মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া, বড় ভাই মাসুক মিয়ার মেয়ে ফাহিমা ও সাথী তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসলে সমূহ বিবাদীগণ কা কাঠের রুল দিয়ে এলোপাতাড়ী বাড়ি মেরে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলাফুলা জখম করে।

তাদের চিৎকার শোনে আশপামের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে বিবাদীদের হাত থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে বাদী দুলাল মিয়ার বড় ভাই মাসুক মিয়াকে হাসপাতালের ১১নং ওয়ার্ডের এনএক্স-৮নং বেডে ও ভাগিনা কামরানকে অপারেশনের জন্য ইমাজেন্সী বিভাগের নেয়া হয়। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাদী দুলাল মিয়া প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে বিবাদীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি বিবাদীদের দৃষ্টান্তমূল শাস্তির দাবী জানান।