September 26, 2021

Sylhet Amar Sylhet

www.sylhetamarsylhet.com

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ছবি: ফোকাস বাংলা

‘বাংলাদেশে ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে করোনা’

অনলাইন ডেস্ক :

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার সন্ধ্যায় পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যেই এই ভাইরাস আমাদের দেশে ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে। এবার সবাইকে অনুরোধ করবো পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে বসেই নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করুন। আপনারা বিনা কারণে ঘরের বাইরে যাবেন না। অযথা কোথাও ভিড় করবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন, পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করুন।

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা বাংলাদেশের জন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইসের কারণে গোটা বিশ্ব আজ অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা আভাস দিচ্ছে। বিশ্বের ২৫০ কোটিরও বেশি মানুষ আজ ঘরবন্দি। কোথাও লকডাউন, কোথাও গণছুটি আবার কোথাও কারফিউ জারি করে মানুষকে ঘরবন্দি করা হয়েছে। বাংলাদেশেও গত ২৫-এ মার্চ থেকে ২৫-এ এপ্রিল পর্যন্ত একটানা ৩২ দিন সাধারণ ছুটি বলবত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের আমদানি-রপ্তানির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে বেশিরভাগ দেশে প্রবাসী ভাই-বোনেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। স্থবিরতা নেমে এসেছে রেমিটেন্স প্রবাহে। আমরা বিশ্ব ব্যবস্থার বাইরে নই। আমরা ইতোমধ্যে ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। যা জিডিপির ৩.৩ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এই দুঃসময়ে আমাদের কৃষি উত্পাদন ব্যবস্থা শুধু সচল রাখা নয়, আরও জোরদার করতে হবে। সামনের দিনগুলিতে যাতে কোনপ্রকার খাদ্য সঙ্কট না হয়, সেজন্য আমাদের একখণ্ড জমিও ফেলে রাখা চলবে না। কৃষকেরা যাতে উত্পাদিত বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য পান সে জন্য চলতি মওসুমে গত বছরের চেয়ে ২ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত ধান ক্রয় করা হবে। এজন্য অতিরিক্ত ৮৬০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, করোনা ভাইরাসের মহামারী থেকে আমাদের বাঁচতে হবে। আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। যখন যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা নেওয়া হচ্ছে। এ মুহূর্তে আমাদের কোন খাদ্য সঙ্কট নেই। সরকারি গুদামে যেমন পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার মজুত রয়েছে, তেমনি রয়েছে গৃহস্থদের ঘরে ঘরে।