September 23, 2021

Sylhet Amar Sylhet

www.sylhetamarsylhet.com

সেবাধর্মী মানবীয় আচরণে স্বার্থক এক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার পাল

## আবুল হোসেন ##
অভিজিত কুমার পাল। বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অত্যন্ত সৎ, হাস্যজ্জ্বোল, প্রাণবন্ত, কর্ম উদ্যোমী এক শিক্ষা কর্মকর্তা তিনি। গেল বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে আমি গোলাপগঞ্জের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুবাদে উনার সাথে আমার পরিচয় হয়। প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনীয়তায় তখন থেকেই উনার ব্যবহারিক মাধুর্য্য, নিজের দায়িত্ববোধের কাজে একজন কর্মকর্তা যে কতটুকু হেল্পফুল হতে পারেন তার একটুখানি ঝিলিক দিয়েছিলেন তখনই যখন আমি আমার এমপিও ভূক্তির একটি প্রয়োজনে ডিউ সেট আপের জন্য উপজেলায় যাই । তারও আগে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সততা,উচ্চ মার্গের নৈতিকতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ঐ শিক্ষা কর্মকর্তা স্যার আমার মনের গহীন ভূবনে অসীম শ্রদ্ধাবোধের স্মারক প্রতিস্থাপন করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গেল দু’তিন দিন আগ থেকে আজ পর্যন্ত অভিজিৎ কুমার পাল নামক এই শিক্ষা কর্মকর্তা ইনডেক্স ডিলিট সংশ্লিষ্ট এক পরিসেবার মাধ্যমে আমার প্রতি যে অমায়িক ও মানবিক ব্যবহার দেখিয়েছেন; একজন পদস্থ ও সদা ব্যস্ত অফিসার হয়ে আমার জানামতে এধরনের অমায়িক ব্যবহার, সহযোগিতাপরায়ন মনোভাব দ্বিতীয়টি কোথাও হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। আমি বারংবার কোন একটি আইটি জটিলতা বিষয়ে স্যারকে বিরক্ত করছিলাম। কিন্তু মানুষটি অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় আমাকে প্রতি উত্তর দিচ্ছিলেন। অতঃপর এরই প্রয়োজনে একসময় আমি উনার কর্মস্থল গোলাপগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে যখন যাই,তখন সেখানে তাঁর দ্বারা অফিসের পুরো স্টাফ,উপজেলার অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে সম্পর্ক এবং পুরো উপজেলার শিক্ষা পরিবারের সকল শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারীদের প্রতি যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করে থাকেন এবং পরিসেবা দিয়ে থাকেন তা দেখে আমি বিমুগ্ধ হয়েছি এবং আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি।
আজকে যেখানে বাংলাদেশের শুধু শিক্ষা সেক্টর নয়; অন্যান্য কার্যক্রমেও লাগামহীন দুর্নীতির দৌরাত্ম,অসহযোগিতার হিংসাত্মক প্রতিযোগিতা, অপতৎপরতার নির্লজ্জ মহোৎসব আর অধিনস্থদের প্রতি অহেতুক বালখিল্যতা বিদ্যমান,সেখানে অভিজিৎ কুমার পালের মতো শিক্ষা কর্মকর্তা যখন একেবারে নিজের দায়িত্ববোধের প্রতি সম্মান, অন্যের কষ্টের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব এবং প্রতিটি কর্মতৎপরতায় মানবীয় আচরণের মাধ্যমে একজন স্বার্থক শিক্ষা সেবীর পরিচয় দিয়েছেন তা আমার মতো অনেককেই বিস্মিত করেছে। বিশ্বাস করুন,একটি ব্যাপারে এ কয়দিন যাবৎ আমি একদম হতাশার মধ্যে ছিলাম। অভিজিৎ স্যার ঐ ক্ষেত্রে হৃদ্যিক সহযোগিতার জন্য তিনি একদম নিঃস্বার্থভাবে অফিসিয়াল কার্যপ্রনালীর অংশ হিসেবে একেবারে সেবাধর্মী মনোভাব নিয়ে আমাকে যে সহযোগিতা করেছেন এতে আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি, আমার চোখ দিয়ে উনার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার জল উপচে পড়েছে। আমি ঐ শিক্ষা কর্মকর্তার বর্তমান বিবেকবোধের আচরণের সাথে কোথাও তুলনা করতে পারছিনা।
এদিকে আমার জীবনের স্বল্প সময়ের কর্মময় পথ পরিক্রমায় অনেক সরকারী দপ্তর পরিদপ্তরে যাওয়া হয়েছে। ওখানকার সম্মানিত অফিসারগণ তো ভিন্ন কথা ঐসব অফিসগুলোর আলো বাতাসের নিঃশ্বাস নেওয়াও যেন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। কিন্তু সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার পাল যেন সেই থেকে নিতান্তই ভিন্ন,প্রস্ফুটিত,মানবীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন একজন সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে আমার মূল্যায়নে বিবেচিত হয়েছেন যা আমাকে চিরদিনের জন্য কৃতজ্ঞতা বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। আমি আশা করি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে মুজিব বর্ষের স্বার্থকতার প্রায়োগিক প্রয়োজনীয়তায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শ্রদ্ধেয় অভিজিৎ কুমার পালকে উচ্চমাত্রায় মূল্যায়িত করতে শিক্ষা মন্ত্রনালয় সহ শিক্ষা পরিবারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
শিক্ষা বিপ্লবী অভিজিৎ কুমার পালের মতো সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অনন্য প্রতিকদের এই মানবিক সেবা ও দায়িত্ববোধের যথার্থ কার্যকারীতা দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। পরিশেষে মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার পাল স্যারের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যতা কামনা করছি।
লেখক: শিক্ষক, সিলাম-দক্ষিণ সুরমা,সিলেট।