October 23, 2021

Sylhet Amar Sylhet

www.sylhetamarsylhet.com

দক্ষিণ সুরমার কামাল বাজারে প্রতিবন্ধী পরিবারের জায়গা দখলচেষ্টা

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কামালবাজারে জাল দলিল ও নামজারি করে এক প্রতিবন্ধী পরিবারের জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে হানিফা বেগমের প্রতিবন্ধী ছেলে মুজিবুল হক বাদী হয়ে কামালবাজারের গোফতরগাঁও গ্রামের লিলু মিয়া ও সিরাজ মিয়া, খাতুন বিবি, জহুর আলী, টুকেরবাজার ভরা পূর্বদশা গ্রামের আমির আলী, গোফতরগাঁও গ্রামের জয়নাল মিয়াকে আসামী করে সিলেটের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলা করেন। মামলা নং ১৬৮।

মামলা সূত্রে জানা যায়, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ওই জায়গা দখল করতে বারবার চেষ্টা করছে আসামীগণ। সর্বশেষ গত ৬ ফেব্রুয়ারি আসামীগণ জায়গা দখলের জন্য হামলা চালায় প্রতিবন্ধী পরিবারের সদস্যদের ওপর। হামলার গত ৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিবন্ধী মুজিবুল হক বাদী হয়ে অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলা করেন। মামলার পর উভয়পক্ষকে জায়গার ওপর যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত।

জানা যায়, দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এলাকার খিদিরপুর গ্রামের সাকির মিয়ার স্ত্রী হানিফা বেগম লক্ষ্মীপাশা মৌজার ০.৩১ শতক ভূমির মৌরসি সূত্রে মালিক। হানিফা বেগমের প্রতিবন্ধী ছেলে মুজিবুল হকসহ অন্য ছেলে-মেয়েরা ওই জায়গা দেখাশোনা করে আসছেন। মামলার আসামীগণ ১৯৯৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাল দলিল তৈরী উক্ত ভূমি রেজিস্ট্রি করে। ২০১৮ সালে তারা জায়গার নামজারির পর প্রতিবন্ধীর পরিবার দলিলের বিষয়টি জানতে পারে। একই বছরের ২৬ নভেম্বর হানিফা নামজারি আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নামজারি স্থগিত করেন। পরে প্রতিপক্ষ বিভিন্ন সময় ওই জায়গা দখলে চেষ্টা চালালে ৯ ফেব্রুয়ারি সিলেটের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন মুজিবুল।

এ ব্যাপারে হানিফা বেগম জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ১২ ফেব্রুয়ারি আসামীগণ জায়গায় মাটি ভরাট করে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে লিলু মিয়া বলেন, আমরা দলিল মূলে জায়গার মালিক। আমরা ভোগদখল করে আসছি। হানিফা বেগম নিজের স্বত্ব নেওয়ার পরও মিথ্যা দাবি নিয়ে মামলা-মোকাদ্দমা করছেন।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল ফজল বলেন, আদালতের মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। আইন-শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে থানা পুলিশ সরেজিমন গিয়ে উভয় পক্ষকে আদলতের নির্দেশ মানতে বলা হয়েছে। যেহেতু আদালতে মামলা চলছে, তাই উভয় পক্ষকে রায় না হওয়ায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।