এনআরসি ইস্যুতে চোখ খোলা রেখেছে বাংলাদেশ!

দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাতে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত।

ভারতের এনআরসি (নাগরিকপঞ্জী) ইস্যুতে বাংলাদেশ সজাগ দৃষ্টি রেখেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার সময়, এনআরসির প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের ভয়ের কোন কারণ নেই বলে আস্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীকে।

শহিদুল হক বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদের সম্পর্ক এখন খুবই ভাল। তবে এখন আমরা চোখ খোলা রাখছি।’ দীর্ঘদিনের বিবিআইএন মোটর ভেইক্যালস চুক্তি নিয়ে তিনি জানান, যদি ভুটান না আসে, তাহলে নেপাল, বাংলাদেশ এবং ভারতের এগিয়ে যাওয়া উচিত। বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপালের মধ্যে পরিবহন ব্যবস্থা জোরদার করতে বিবিআইএন মোটর ভেইক্যালস চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

এর আগে ৩০ অগস্ট প্রকাশ করা এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে ১৯ লক্ষ্যের বেশী মানুষের নাম। সেসময় বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জোর দাবি জানান ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সে প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘এই অবস্থায় আমাদের সঙ্কট তৈরি করা উচিত নয়। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে এবং পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে।’

ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলা হয়েছে, জাতীয় নাগরিকপঞ্জী তালিকা আদালতের পর্যবেক্ষণে হয়েছে এবং পরিস্থিতির চূড়ান্ত চিত্র এখনও সামনে আসেনি।

এই অবস্থায় চিন্তিত নন জানিয়ে শহিদুল হক বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, প্রত্যেকেই এই তালিকায় রয়েছে, তা নিশ্চিত করতেই এনআরসি প্রকাশ করা হয়েছে।’

নিউইয়র্কে গতমাসেও জাতিসংঘের সাধারণ সভায় মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সময় এনআরসির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আমেরিকা ও মেক্সিকোর সঙ্গে তুলনা তুলে ধরে বাংলাদেশের বিদেশসচিব শহিদুল হক বলেন, ‘মানুষের চলাফেরা একটি অন্তর্জাতিক ইস্যু। প্রতিবেশী দেশে মানুষের যাওয়া, সবসময়েই ইস্যু।’