গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসি বরাবরে স্মারকলিপি

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমানের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও বেআইনী ভাবে একজন দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষককে পুনর্বহালের বিষয়ে অভিযোগ এনে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পিএএ ও সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বরাবরে পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন কালিকৃষ্ণপুর এলাকাবাসী। ১৮ আগস্ট রোববার এলাকাবাসী তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে অভিযোগ পেশ করেন।

স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের কালিকৃষ্ণপুর এসইএসডিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শরিফউল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে এমপিও স্থগিতসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম। এর পর থেকে অনিয়মিত ভাবে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলেও গত ৬ মাস থেকে দন্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ শরিফউল্লাহ কোন অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসী স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, বর্তমান গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমন এই দন্ডপ্রাপ্ত শিক্ষককের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টা তাকে স্বপদে বহাল রাখতে উঠেপড়ে লাগেন। বিগত ৮ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয় অর্গানাইজিং কমিটির সভা ডাকেন। সভায় মো. শরিফউল্লাহ উপস্থিত হোন। সভায় সকলের সামনে শরিফউল্লাহ তার সকল অপরাধ স্বীকার পূর্বক এই মর্মে তাকে ৩ মাসের জন্য পর্যবেক্ষণে রেখে পরবর্তিতে তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু উক্ত সভার কয়েকদিন পরেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় তালুকদারকে উপজেলায় তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আসেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে রেজুলেশনে প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে নেয়া সিদ্ধান্ত অংশ কেটে তাকে স্বপদে বহাল এবং তার এমপিও এর বিষয়টি অগ্রগামী করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে লিখতে বলেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজুলেশন খাতায় কমিটির সিদ্ধান্ত তিনি এভাবে কাটতে পারেন না জানালে উপজেলা নির্বহী কর্মকর্তা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি লিখিয়ে নেন। এলাকাবাসী দুর্গম এলাকার একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয়টি রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানুনুর রহমান ও দন্ডপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ শরিফউল্লাহর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন এলাকাবাসীর পক্ষে এম কবির উদ্দিন, মোবারক হোসেন, ইসলাম হোসেন, হাছন আলী, খুরশেদ আলম, আলী হোসেন, ওয়াহিদ, মোঃ হারিছ মিয়া, মুক্তার আলী, মুজিবুর রহমান, মাস্টার সাইদুল, আব্দুল খালেক, হিলাল আহমদ, আছির মিয়া, রাসেল, আবু ছালিক, হিরন মিয়া, হাছান আলী, বেলাল আহমদ, জামাল হোসেন প্রমুখ।