আটগ্রাম সুরমা নদীর উপর ব্রিজের জোর দাবী জানিয়েছেন হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী

সিলেটের জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার অন্যতম একটি প্রধান নদী হচ্ছে সুরমা নদী। দীর্ঘদিন ধরে নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে জকিগঞ্জে আটগ্রামবাসী। দেশের সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও আটগ্রামবাসী সেই উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। সেতু নির্মাণ না হওয়ার ফলে
স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ দুই উপজেলার কয়েকটি গ্রামের প্রায় তিন হাজার মানুষকে প্রতিনিয়ত নিজেদের প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়েই পারাপার করতে হয়। এতে প্রতিনিয়তই ঘটে অনেক দুর্ঘটনা। ফলে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। আর সব চেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরাই। বার্ষকালে খেয়া নৌকা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়।
প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী নদীর উপর দিয়ে যাতায়াত করেন। লুৎফুর রহমান স্কুল এন্ড কলেজ, ইছামতি ডিগ্রী কলেজ, ইছামতি কামিল মাদ্রাসা, আটগ্রাম আমজাদিয়া দাখিল মাদ্রাসা সহ অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই প্রতিদিন পোহাচ্ছেন চরম দুর্ভোগ। তাছাড়া এপারে সুরমা বাজার অপারে আটগ্রাম বাজার, দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত এখান দিয়ে কিন্তু তাদের কষ্টের এই দৃশ্য যেন দেখার কেউ নেই। তাই, সময়ের দাবী সুরমা নদীর উপরে ব্রিজ নির্মাণ হোক। বিবৃতিতে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী আটগ্রাম সুরমা নদীর উপর ব্রিজের দাবীতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ও বিশিষ্ট মুরব্বিগণের চলমান আন্দোলন সংগ্রামের সাথে একাত্মতা পোষণ করে আন্দোলনে সম্পৃক্ত সকল ব্যক্তি ও সংগঠনকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানান এবং তাঁর অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের ন্যায় সঙ্গত আন্দোলন সংগ্রামে আমি আপনাদের পাশে আছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবো।
আটগ্রাম সুরমা নদীর উপর ব্রিজের জোর দাবী জানিয়েছেন জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট এর সভাপতি ও শাহজালাল রহ: ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা উপশহর সিলেট এর প্রিন্সিপাল বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।
তিনি বলেন, সাঁকোর স্থলে একটি সেতু নির্মিত হলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি বাড়ত শিক্ষিতের হার। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এ ব্যাপারে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করছেন না। রোগীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। তাছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পারাপারের ক্ষেত্রে অনেক সময় অনেক শিক্ষার্থীর হাত থেকে বই-খাতা নদীর পানিতে ছিটকে পড়ে হচ্ছে নষ্ট।
হাফিজ দুধরচকী বলেন, প্রতি বছর সাঁকোটি নির্মাণ করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। আর তা এলাকাবাসী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রদান করা চাঁদা থেকে নির্মাণ করা হয়। সরকারি কোনো সহযোগিতা না থাকায় এলাকার গরীব জনসাধারণের জন্য তা কষ্টকর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আর্থিক সংকটের কারণে তাই সাঁকো নির্মাণ করা হয় শুধু মাত্র সরু বাঁশ দিয়ে। তাতে বাঁশের ছাটাই দেয়া সম্ভব হয় না। ছাটাই না থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
সেতু নির্মাণ না হওয়ায় এসব গ্রামের মানুষজনকে পোহাতে হচ্ছে চরম দূর্ভোগ। প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার মানুষকে সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। এছাড়া ওই এলাকার প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে সাঁকো ব্যবহার করে আসতে হয়।