পবিত্র জুমাতুল বিদার ফজিলত

:: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী ::

মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার জুমাতুল বিদা। মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে এই জুমাবারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ। আমাদের প্রিয় নবী করিম (সা.) জুমার নামাজ প্রতিষ্ঠা করেই এর গুরুত্বের পূর্ণ কথা বারবার উচ্চারণ করেছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহপাক এরশাদ করেন- হে ইমানদাররা, শুক্রবার যখন জুমার নামাজের জন্য তোমাদের আহ্বান জানানো হয় অর্থাৎ আজান দেওয়া হয়, তখন আমার নিমিত্তে প্রস্তুত হও, ক্রয়-বিক্রয় পরিহার করো। এতে তোমাদের কল্যাণ বয়ে আনবে, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।

পবিত্র জুমা সম্পর্কে রাসূল পাক (সা.) বলেছেন, শুক্রবার সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিবস এবং জুমার নামাজ পালনে রয়েছে অশেষ কল্যাণ। জুমার নামাজ সম্পর্ক তিনি আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি অকারণে তিন জুমা নামাজ কাজা করেন, তিনি যেন ইসলামকে অবজ্ঞা করলেন, আর তার অন্তরে মরিচা পড়ে গেল। মহানবীর (সা.) এই মহান বাণী নিঃসন্দেহে তাৎপর্যবহ। সে ক্ষেত্রে পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবারের যে কত কত মরতবা এবং ফজিলতপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সারা বছরের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মাস হলো পবিত্র রমজান। এ মাসের পবিত্রতা, ঐশ্বর্যময়তা ও কল্যাণের কথা প্রসঙ্গে রাসূলেপাক (সা.) আরও বলেছেন, হে জনমণ্ডলী, একটি মহান বরকতময় মাস তোমাদের জন্য আল্লাহপাক বয়ে নিয়ে আসছেন। এ মাসের একটি দিন হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর।

রাসূলেপাক (সা.) পবিত্র জুমার খুতবার মাঝে সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেছেন, নিজের কর্মফলের জন্য ভীত হলেও খোদার হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় নেই। তিনি যেমন করুণাময়, তেমনি প্রেমময়। সে জন্যই তিনি আমাদের পাপ কাজের ভয়াবহ পরিণামের কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দেন। পবিত্র জুমার জামাতের খুতবাতে আরও উচ্চারিত হয়, বন্ধুগণ, মাস বিদায় নেওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। একদিনের মেহমান অথবা বিদায়ী বন্ধুর মতো অপেক্ষামাণ সে। তোমরা কি বন্ধুর বিদায়ে তিক্ত স্বাদ পাও না? মাহে রমজানে নাজিল হয়েছে পবিত্র কোরআন মজিদ। আর রমজানের শেষ শুক্রবারেই জুমাতুল বিদার আবির্ভাব ও প্রস্থান।

আবির্ভাব ও প্রস্থানের এই শুভদিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে, মহাবিচারক আল্লাহতায়ালা জুমার দিনে ছয় লাখ বান্দাকে দোজখের আগুন থেকে মুক্তি দেন এবং প্রতিদিন দ্বিপ্রহরের আগুন না বাড়িয়ে, সমপরিমাণে কমিয়ে দেন।

জুমার আরও ফজিলত হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি জুমার দিনে মারা গেলে, তিনি শহীদ হিসেবে গণ্য হন এবং কবরের আজাব থেকেও মুক্তি পান। জুমাতুল বিদার এমন সৌভাগ্যময় বার্তা আর কখনও আমাদের জন্য আসেনি। জুমাতুল বিদার এই মাহাত্ম্যগুণে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে সত্য-ন্যায়, ত্যাগ-তিতিক্ষা, সংযম ও সহমর্মিতার অনুশীলনে আমরা যেন সুন্দর হয়ে উঠি এবং জুমাতুল বিদার এই পবিত্র দিনের ও বিদায়ী রমজান মাসের ফজিলতে আমরা যেন সর্বপ্রকার পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি, সার্বিক মঙ্গল ও সুখ-শান্তিতে বেঁচে থাকতে পারি।

আসুন, ফজিলতপূর্ণ জুমাতুল বিদার জামাতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নিরীহ ও মজলুম নিরপরাধ মুমিন মুসলমানদের উদ্দেশে সর্বশক্তিমান আল্লাহপাকের দরবারে মোনাজাত করি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে জুমাতুল বিদার ফজিলত দিয়ে আমাদের সকলের জীবনকে সুন্দর করার তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন। প্রিন্সিপাল- শাহজালাল রহ, ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট।