ঐতিহাসিক বদর দিবসের তাৎপর্য-গুরুত্ব ও শিক্ষা

:: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী ::

ইসলামের প্রথম বিজয়। ইসলামের ইতিহাসে বদর একটি অন্যতম বিজয় প্রান্তর। বদর পবিত্র মদীনা শরীফ হতে প্রায় ৮০ মাইল দূরবর্তী একটি কূপের নাম। এ নামে একটি গ্রামও রয়েছে। ইসলামের প্রথম যুদ্ধ সংগঠিত হয় হিজরী ২য় সনের ১৭ রমজান মোতাবেক ৬২৪ সনের ১৮ নভেম্বর শুক্রবার। মতান্তরে ৬২৪ সনের ১৭ মার্চ। ইতিহাসে ইহাই বদরের যুদ্ধ নামে অভিহিত। ইসলামের ইতিহাসে ইহা-ই সর্বপ্রথম ও সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ। সংক্ষিপ্তাকারে বদর যুদ্ধের ইতিহাস, গুরুত্ব,তাৎপর্য ও শিক্ষা সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো।

বদর যুদ্ধের কারণ ও পটভূমি
মক্কাবাসীদের মধ্যে যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে কুরাইশরা তাদের উপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায়। তাদেরকে স্বদেশ থেকে বিতাড়িত ও তাদের ধন-সম্পদ জবর দখল করে নেয়া হয়। অন্যদিকে যে সব দেশে মুসলমানগণ আশ্রয় গ্রহণ করেন কুরাইশরা সে সব দেশের শাসক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের উপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যার্থতায় পর্যবসিত হয়। (তারীখে তাবারী-১/১৬০৩, ইবনে হিশাম ২১৭ পৃঃ) অপরপক্ষে মুসলমানরাও হিযরতের পর মদীনা থেকে প্রতিশোধ গ্রহনের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত হতে থাকে। তারা কুরাইশদের উপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেন। কুরাইশদের সমস্ত গৌরব, অহংকার ও শক্তির প্রধান উৎস ছিল শাম দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য। তাই রাজনৈতিক দৃষ্টকোন থেকে তাদের গর্ব ও অহংকারকে বন্ধ করার উদ্দেশ্যে মুসলমানরা তাদের উপর ঝটিকা আক্রমণ চালায় এবং ব্যবসার সুযোগ বন্ধ করে দেয়। একবার নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট মদীনায় এ সংবাদ এসে পৌছে যে, আবু সুফিয়ান একটি বাণিজ্যিক কাফেলার পণ্য সামগ্রী নিয়ে সিরিয়া থেকে মক্কার দিকে যাচ্ছে। আর এই বাণিজ্য মক্কার সমস্ত কুরায়েশদের অংশীদার। ইবনে আকবার বর্ণনাতে, মক্কার এমন কোন কোরায়েশ নারী বা পুরুষ ছিল না যার অংশ এ বাণিজ্যে ছিল না। কারো কাছে এক মিসকাল পরিমাণ সোনা থাকলে, সেও তার এ বাণিজ্যের অংশ হিসেবে লাগিয়েছে। এ কাফেলার মোট পুঁজি সম্পর্কে ইবনে আকাব বলেন, তা ছিল ৫০ হাজার স্বর্ণ মুদ্রা দিনার। ১৪০০ বছর পূর্বে যার মূল্য ছিল ২৪ লাখ টাকা। যা বর্তমান বাজারে প্রায় ১৫০ কোটির অপেক্ষা ও বেশি। প্রকৃতপক্ষে এ বাণিজ্য কাফেলাটি ছিল কুরাইশদের একটি বাণিজ্য কোম্পানী।
ইমাম বাগাভী (রহঃ) বলেন, একথা সকলের জানাছিল যে, কুরাইশদের এ বাণিজ্য এবং এ বাণিজ্যিক পুঁজিই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি। এর উপর ভরসা করে তারা রাসুল (সাঃ) ও সাহাবীদের উপর উৎপীড়ন করে মক্কা থেকে মদীনায় যেতে বাধ্য করেছিল। সে কারণেই নবী করীম (সাঃ) যখন সিরিয়া থেকে এ কাফেলা ফিরে আসার সংবাদ পেলেন তখন তিনি স্থির করেন যে, এখনই কাফেলার মোকাবেলা করার। কুরাইশদের ক্ষমতাকে ভেঙ্গে দেয়ার উপযুক্ত সময়। তিনি সাহাবায়ে কেরামদের সাথে পরামর্শ করে নির্দেশ দিলেন যে, যাদের নিকট এ মুহুর্তে সাওয়ারী উপস্থিত রয়েছে এবং জেহাদের যেতে চান, শুধু তারাই যাবে। আরও যারা যুদ্ধে যেতে ইচ্ছুক ছিলেন, কিন্তু তাদের সাওয়ারী ছিল গ্রাম এলাকায়, তারা গ্রাম থেকে সাওয়ারী এনে পরে যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দিলেন। কিন্তু তখন এতটা অপেক্ষা করার সময় ছিলনা। কাজেই নবী করীম (সাঃ)-এর সাথে আগ্রহীদের মধ্য হতে খুব কম সংখ্যককে তিনি সাথে নিতে পারলেন। তাদেরকে নিয়েই তিনি রওয়ানা হলেন যুদ্ধ যাত্রায়। বি’রে সুকাইয়া নামক স্থানে পৌছে মহানবী (সাঃ) কায়েস ইবনে সাদাআ (রাঃ)-কে সৈন্য গণনা করার নির্দেশ দেন। তখন তিনি গণনা করে জানালেন যে, সৈন্য সংখ্যা ৩১৩ জন। মহানবী (সাঃ) একথা শুনে আনন্দিত হয়ে বললেন, তালুতের সৈন্য সংখ্যাও তাই ছিল। কাজেই লক্ষণ ভালো। বিজয় ও সফলতার লক্ষণ বটে। সাহাবায়ে কেরামদের সাথে মোট উট ছিল ৭০টি। প্রতি ৩ জনের জন্য ১টি। যাতে তারা পালাক্রমে সাওয়ার করেছিলেন। এমনকি স্বয়ং রাসুল (সাঃ) নিজেরও পালাক্রমে পালা এলে পায়ে হেটে যেতেন। অপরদিকে সিরিয়ার বিখ্যাত স্থান ‘আইনে যোরকায়’ পৌছে একব্যক্তি কুরাইশ কাফেলার নেতা আবু সুফিয়ানকে এ সংবাদ দিল যে, নবী করীম (সাঃ) তাদের এ কাফেলার অপেক্ষা করছেন। তিনি এর পশ্চাদ্ধাবন করবেন। আবু সুফিয়ান সতর্কতা মূলকঃ প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। যখন হেজাজের সিমানায় কাফেলাটি পৌঁছল, তখন জনৈক দমদম ইবনে ওমরকে কুঁড়ি মিসকাল স্বর্ণ অর্থাৎ তখনকার প্রায় ২ হাজার টাকা মজুরি দিয়ে এ ব্যাপারে রাজী করাল যে, সে একটি দ্রুতগামী উষ্ট্রিতে চড়ে যথাশীঘ্র মক্কায় গিয়ে এ সংবাদটি পৌছে দিবে যে, তাদের কাফেলা সাহাবায়ে কেরামের আক্রমণে আশঙ্কার সম্মুখীন হয়েছে। দমদম ইবনে ওমর সেকালের বিশেষ রীতি অনুযায়ী আশঙ্কার ঘোষণা দেয়ার উদ্দেশ্যে তার উষ্ট্রীর নাক-কান কেটে এবং নিজের পরীধেয় বস্ত্রের সামনে পেছনে ছিড়ে ফেলল এবং হাওলদাটি উল্টোভাবে উষ্ট্রীর পিঠে বসিয়ে দিল। এটি ছিল সেকালে ঘোর বিপদের চিহ্ন। যখন সে এভাবে মক্কায় এসে ঢুকলো, গোট মক্কা নগরীতে এক হৈ-চৈ পড়ে গেল। সাজ সাজ রব উঠলো। সমস্ত কুরাইশ প্রতিশোধের জন্য তৈরি হয়ে গেল। মাত্র ৩দিনের মধ্যে সমগ্র কুরাইশ বাহিনী পরিপূর্ণ সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। তাদের বাহিনীতে ১০০০ সৈন্য, ২০০ ঘোড়া, ৬০০ বর্মধারী এবং সারী গায়িকা ও বাঁদীদল তাদের বাদ্যযন্ত্রসহ বদর অভিমূখে রওয়ানা হলো। প্রত্যেক মনজিলে তথা বিরতীতে তাদের খাবারের জন্য ১০টি করে উট জবাই করা হতো।

অপরদিকে রাসুল (সাঃ) শুধুামাত্র একটি বাণিজ্যিক কাফেলার মোকাবেলা করার অনুপাতে প্রস্তুতি নিয়ে ২য় হিজরীর ১২ রমজান শনিবার মদীনা থেকে রওয়ানা হন। কয়েক মঞ্জিল অতিক্রম করার পর বদরের নিকট এসে পৌঁছে দু’জন সাহাবীকে আবু সুফিয়ানের সংবাদ নিয়ে আসার জন্য পাঠালেন। (মাযহারী) সংবাদ বাহকের ফিরে এসে জানালেন যে, আবু সুফিয়ানের কাফেলা মহানবী (সাঃ)-এর পশ্চাদ্ধাবনের সংবাদ জানতে পেরে নদীর তীর ধরে অতিক্রম করে চলে গেছে। আর কুরাইশরা তাদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ও মুসলমানদের সাথে মোকাবিলা করার জন্য হাজার সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে এগিয়ে আসছে। (ইবনে কাসীর) মুশরিকদের সেনাবাহিনীর অধিনায়ক ছিল আবু জেহেল ইবনে হিশাম। কুরাইশদের ৯জন বিশিষ্ট ব্যক্তি খাদ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১দিনের ৯টি, অন্যদিনের ১০টি এভাবে উট জবাই করা হতো। পক্ষান্তরে রাসুলে করীম (সাঃ) মুসলিম সেনা বিন্যাস এভাবে করেছিলেন যে, একদল ছিল মুজাহিদ এবং অন্যদল ছিল আনছার। মুসলমান রোজা ও ক্ষুধা অবস্থায় যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। (আর রাহীকুল মাখতুম) অভিশপ্ত ইবলিস ছোরাকা ইবনে মালেক ইবনে জাশআম মুদলিজীর রূপ ধারণ করে এসেছিল। মুশরেকদের নিকট থেকে সে তখনো আলাদা হয়নি। কিন্তু মুশরিকদের বিরুদ্ধে ফেরেশতাদের প্রস্তুতী গ্রহণ দেখে সে ছুটে পালাতে লাগল। কিন্তু হারেস ইবনে হিশাম (রাঃ) তাকে ধরে ফেললেন। তিনি ভেবেছিলেন, লোকটি আসলেই ছোরাকা ইবনে মালেক। শুরাকাকে বলতে লাগল, ছোরাকা ইবনে তুমি কোথায় যাচ্ছ? তুমি কি বলনি যে, আমাদের সাহায্য করবে। আমাদের নিকট থেকে দূরে সরে থাকবে না? ছোরাকা বলল, আমি এমন কিছু দেখতে পাচ্ছি যা তোমরা দেখতে পাওনা। আল্লাহকে আমার ভয় হচ্ছে। তিনি কঠোর শাস্তিদাতা। এরপর ইবলিশ সমুদ্রে গিয়ে আত্মগোপন করল।

  • যুদ্ধে সময়কালীন আগে-পরের কিছু ঘটনা
    এ যুদ্ধে হযরত ইকাশা ইবনে মুহসিন আসাদীর তালোয়ার ভেঙ্গে যায়। তিনি নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলেন। নবী করীম (সাঃ) তাকে এক খণ্ড কাঠ টুকরো দিয়ে বললেন, এটি দিয়ে লড়াই কর। সেই কাঠখণ্ড হাতে নিয়ে সোজা করতেই একখানা ধারালো চকচকে তলোয়ারে পরিণত হলো। এরপর তিনি সেই তরবারী দিয়ে লড়াই করতে লাগলেন। ইতিমধ্যে মুসলমারা জয়লাভ করেন। সেই তরবারীর নাম রাখা হয় ‘আওন’ অর্থাৎ সাহায্য। সেই তরবারী ইকাশার নিকটই থাকতো। তিনি বিভিন্ন যুদ্ধে এ তরবারী ব্যবহার করতেন। হযরত আবু বকর (রাঃ) বিদ্রোহীদের সাথে যুদ্ধে তিনি শহীদ হন। সেই সময়েও ঐ তরবারী তার সাথেই ছিল। মুশরিকদের লাশ যখন কুফে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেয়া হলো, তখন ওতবা ইবনে রবীয়ার লাশ কূয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সে সময় রাসুল (সাঃ) ওতবার পুত্র হুযাইফার দিকে তাকালেন। লক্ষ করলেন, আবু হুযাইফা বিষন্ন গম্ভীর। নবী করীম (সাঃ) বললেন, হে হুযাইফা! তুমি কি তোমার পিতার ব্যপারে মনে কষ্ট পাচ্ছ? তিনি বললেন, জ্বীনা, হে আল্লাহ্’র রাসুল (সাঃ)। আমার মনে আমার পিতার হত্যকাণ্ডের ব্যপারে কোনা আফসোস নেই। তবে আমার ধারণা ছিল আমার পিতার কিছু বুদ্ধি ও বিবেক আছে। তার দ্বারা তিনি ইসলামের শীতল ছায়াতলে আসবেন। কিন্তু এখন তার পরিণাম দেখে খুব খারাপ লাগছে। বলাবাহুল্য, এ সংবাদে অবস্থার মোড় পাল্টে গেল। তখন রাসুল করীম (সাঃ) সাহাবায়ে কেরামের ইতিবাচক পরামর্শে রাসুল (সাঃ) অত্যন্ত খুশী হলেন এবং স্বীয় কাফেলাকে হুকুম করলেন, আল্লাহ্ পাক ওয়াদা করেছেন যে, এ দু’টি দলের মধ্যে একটির উপর আমাদের বিজয় দান করবেন। দু’টি দল বলতে, একটি হল আবু সুফিয়ানের বাণিজ্যিক কাফেলা, আর অপরটি হল মক্কা থেকে আগত সৈন্যদল। (তাফসীরে ইবনে কাসীর ও মাজহারী) বদর প্রান্তরে পৌঁছার পর মহানবী (সাঃ) কয়েকজন সঙ্গী-সাথী নিয়ে সমতল ভূমির উপর চলাফেরা করলেন। যে স্থানে কুরাইশ বাহিনীর প্রধাণরা নিহত হবে, অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তিনি সাহাবায়ে কেরামকে সে স্থানটি দেখালেন। তিনি সকল স্থান চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন। ঠিক সেখানেই নিহতদের লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সে যুদ্ধে যুদ্ধ-বিগ্রহ সাধারণত সকালের দিকে শুরু হত। সে কারণেই মহানবী (সাঃ) মুসলিম বাহিনীর সমাবেশের জন্য এমন একটি স্থান নির্বাচন করলেন যেখানে দাঁড়ালে উদীয়মান সূর্যের তীক্ষ্ম রশ্মি মুসলিম বাহিনীর চোখে পড়ে চোখে প্রতিফলিত হবে এবং তাদের গতিকে বিঘিত করবে। (আল-ওয়াকিদী)
  • বদরের রণাঙ্গনে খোদায়ী সাহায্য
    বদরের রণাঙ্গণে খোদায়ী সাহায্য স্বরূপ ফেরেস্তাগণ নেমে আসেন। হযরত আলী (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি বদরের কূপ থেকে পানি আনছিলাম, এমন সময় একটা তীব্র দমকা হাওয়া অনুভব করিনি। কিছুক্ষণ পর আরও একটি দমকা হাওয়া এল। আসলে পর পর ৪ বার দমকা হাওয়া এলো। আসলে এটা ছিল প্রধান প্রধান ৪ ফেরেস্তার আসার আলামত। তারা ১০০০ ফেরেস্তা নিয়ে তাবুর ডান দিকে সারিবদ্ধভাবে কাফেরদের উপর আক্রমণ করে। এতে কাফেররা দিগি¦দিক হয়ে যায়। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, বনী গেফারের এক ব্যক্তি বলল, আমি এবং আমার চাচাত ভাই বদরের এক টিলায় দাঁড়িয়ে যুদ্ধের দৃশ্য অবলোকন করছিলাম, আমাদের পরিকল্পনা ছিল বিজয়ী দলে সাথে মিশে গিয়ে লুটতরাজে অংশগ্রহণ করব। কেননা, তখন আমরা মুসলমান ছিলাম না। হঠাৎ একখণ্ড মেঘ বুকে পড়তে দেখলাম এবং আমরা ঘোড়ার আওয়াজ শুনতে পেলাম। হে খায়রুম! আগ্রসহ হও। খায়রুম হচ্ছে হযরত জিব্রাইল (আঃ)-এর বাহনের নাম। আমার চাচাত ভাই সেই আওয়াজ শুনে ভয়ে ঢলে পড়লো। আমি মৃত প্রায় ছিলাম কিন্তুু বেঁচে গেলাম। (শাওয়াহেদুন নবুয়্যত) যুদ্ধের সূচনায় প্রথমে কুরাইশদের ৩জন এগিয়ে আসলো। মুসলমানদের মধ্য হতে হযরত আলী (রাঃ) হযরত হামযা বিন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) এবং হযরত ওবায়দা বিন হারেছ (রাঃ) তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। ৩জন কাফেরই নিহত হল। এরপর ভীষন যুদ্ধ চলতে থাকে। একদিকে ভয়াবহ অবস্থা অন্যদিকে সাইয়্যেদুল মুরসালিন (সাঃ) সিজদায় পড়ে আল্লাহর দরবারে সাহায্যের প্রার্থনা করেছেন। অবশেষে গায়েবী সুসংবাদে মহানবী (সাঃ) শান্ত হন।
  • যুদ্ধের ফলাফল
    এ যুদ্ধে মুসলমানদের মধ্যে ১৪ জন মুজাহিদ শাহাদাত বরণ করেন। এবং আবু জাহেল সহ ৭০ জন কাফের নিহত হন। ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসের বদরের যুদ্ধের তাৎপর্য ও বিজয় অবিস্মরণীয়। কারণ বদরের যুদ্ধের জয়লাভের ফলে একটি পরিপূর্ণ রাষ্ট্রের পরবর্তীতে রূপ চলে আসে। ইসলাম সত্য, মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) সত্য বাণী নিয়ে পৃথিবীতে তাশরিফ এনেছেন তার বাস্তবতা ফুটে উঠে। সর্বোপরী মুসলমানদের আত্মবিশ্বাস তৈরী হয়। মহানবী (সাঃ) বলেন, এ যুদ্ধ সত্য মিথ্যার পার্থক্য তৈরি করে দেয়। যুদ্ধ অস্ত্র, সৈনিক ও বাহু বলের দ্বারাই শুধু জয়লাভ সম্ভব নয় আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল, আত্মবিশ্বাস, ঐক্যতা ও সঠিক নেতৃত্ব এবং যুদ্ধাস্ত্র দ্বারাই বিজয় সম্ভব।
  • বদর দিবসে করণীয়
    বদর দিবসে করণীয় হলো বদরী সাহাবীদের জন্য আমাদের কল্যানার্থে দোয়া কামনা করা। তাদের উছিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং বদরী সকল সাহাবীর প্রতি মহাব্বত ও ঈমানী ভালোবাসা রাখা। আল্লাহ্ পাক আমাদেরকে বদর দিবসের মর্যাদা রক্ষা করার তাওফীক দান করুন এবং তামাম বিশ্ব মুসলমানদের উপর বদর দিবসের চেতনা আবার ফিরে আসুন। গর্জে উঠুক সেই হুঙ্কার, ঈমানী শ্লোগান, ভেঁসে উঠুন আকাশে বাতাসে ইসলামের জয়গান। আল্লাহুম্মা আমিন।

লেখক : প্রিন্সিপাল শাহজালাল রহঃ ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট।