এ টি এম শামসুজ্জামানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি

বিখ্যাত অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

খুলে দেওয়া হয়েছে রাজধানীর পুরান ঢাকায় গেন্ডারিয়ার আসগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিখ্যাত অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের লাইফ সাপোর্ট। শনিবার সকাল থেকে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় এবং স্বাভাবিক নিয়মে শ্বাস নিতে পারায় তার লাইফ সাপোর্টটি খুলে দেওয়া হয়েছে।

এ টি এম শামসুজ্জামানের ছোট ভাই আলহাজ্ব সালেহ জামান সেলিম জানান, ‘এ টি এম শাসুজ্জামানের শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। মূলত চিকিৎসা শুরুর কয়েক দিন পর তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। এরপর আবার স্বাভাবিক নিয়মে শ্বাস নিতে পারলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চার দিন আগে তাকে আবার লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। তবে শনিবার সকাল থেকেই তুলনামূলকভাবে ভালো আছেন এ টি এম শামসুজ্জামান। তার লাইফ সাপোর্ট যন্ত্র খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি যথেষ্ট সাড়া দিচ্ছেন। সালাম দিলে হাসি দিয়ে জবাব দিচ্ছেন তিনি।’

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল রাতে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এটিএম শামসুজ্জামান। এ সময় তার মল-মূত্র বন্ধ হয়ে যায় ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওইদিন রাত এগারোটার দিকে তাকে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ২৭ এপ্রিল (শনিবার) দুপুরে প্রায় তিন ঘণ্টার অপারেশন শেষে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। এ সময় তিনি স্বাভাবিক নিঃশ্বাস নিতে না পারায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

হাসপাতালের ওই বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ মো. মতিউল ইসলাম জানান, ‘আমরা এখনও তাকে বিপদমুক্ত বলতে পারছি না। কেননা তিনি মূলত বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এই অবস্থায় সমস্যা একটি অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। কেবিনে দেওয়ার আগে পর্যন্ত আমরা কোনোভাবে বিপদমুক্ত বলতে পারছি না।’

উল্লেখ্য, এটিএম শামসুজ্জামান ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন পুরান ঢাকার দেবেন্দ্রেনাথ দাস লেনে। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে সিনেমা জগতে প্রবেশ করেন। পরিচালক নারায়ণ ঘোষ মিতার পরিচালনায় ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য জীবণের প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন। এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুকের চলচ্চিত্রে অভিষেক। এরপর এখন পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী লিখেছেন তিনি। তবে অভিনেতা হিসেবে এ টি এম শামসুজ্জামানে চলচ্চিত্র পর্দায় পা রাখেন ১৯৬৫ সালের দিকে। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনা আসেন তিনি। ১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘দায়ী কে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।