আব্দুল মজিদের সৌর চুলা

বুয়েট প্রকৌশলী আব্দুল মজিদের জ্বালানী বিহীন সৌরচুলা। ছবি: ইত্তেফাক

অনলাইন ডেস্ক

বুয়েট প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ জ্বালানী বিহীন সৌরচুলা উদ্ভাবন করেছেন। তার বাড়ি তাড়াশ উপজেলার বারুহাঁস ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে। পিতা মৃত মাফেজ উদ্দিন। তিনি অরবিট সোলার এনার্জির কর্ণধার।

তার উদ্ভাবিত সৌর চুলার বিশেষত্ব হলো, আলোতে চুলা রেখে দিলে সূর্য থেকে পাওয়া তাপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রান্না হয়ে যাবে। এই চুলায় খাবার পোড়ে না। রান্না হয়ে গেলে অটোমেটিক এর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। চুলার ভেতরের ট্রেতে রান্নার জন্য খাবার দিয়ে অন্য যে কোনো কাজ অনায়াসে করা যায়। চুলাটিতে নেই কোনো ধোঁয়া। সহজেই বহনযোগ্য। সর্বোপরি নিরাপদ ও পরিবেশ বান্ধব।

সরেজমিনে সগুনা ইউনিয়নের সান্দুরিয়া মরিয়ম খানম কওমীয়া-হাফিজিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, তার সৌর চুলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের খাবার রান্না করা হচ্ছে। এ সময় ওই মাদ্রাসার মওলানা শিক্ষক মো. বরকত উল্লাহ বলেন, কোনো রকমের জ্বালানী খরচ ছাড়া খুব সহজে বিগত ছয় মাসের মতো চুলাতে রান্নার কাজ চলছে।

আব্দুল মজিদের সৌর চুলা

প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ জানান, রান্নার সময় চুলাটি সূর্যের আলোতে রাখতে হবে। এরপর চুলার রিফ্লেক্টর খুলে সূর্যের আলোর দিকে রাখলে চুলাতে থাকা টিউবের ওপর আলো সরাসরি পড়বে। এসময় রিফ্লেক্টরের মাঝখানে থাকা টিউবটি যত্ন সহকারে আটকে রাখতে হবে। সূর্যের আলোর উল্টোদিকে কিছুটা উঁচু করে রিফ্লেক্টরটি রাখলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রান্নার কাজ করতে শুরু করবে। সৌরচুলার মাঝখানে রাখা পাত্রে খাবার উপকরণ দিয়ে দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রান্না হয়ে যাবে। রান্না হয়ে গেলে চুলার কাজও বন্ধ হয়ে যাবে। এই চুলায় রান্নার জন্য খাবারের পরিমাণ অনুযায়ী ১-২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে না।

তিনি আরও জানান, তার উদ্ভাবিত সৌর চুলাটি এমনভাবে তৈরি যাতে করে আবহাওয়া মেঘলা থাকলে রান্না করা সম্ভব হয়। ট্রেতে খাদ্য উপকরণ দিয়ে এক ঘণ্টা পর বৈদ্যুতিক লাইনে সংযোগ দিলে সৌর চুলার কাজ অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যাবে। সেখানে কাজ করবে চুলার ভেতরে থাকা বৈদ্যুতিক হিটারটি। বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে সৌরচুলাতে রান্না করতে প্রতিবার খরচ হবে প্রায় ৩০০ ওয়াট বা আধা ইউনিট বিদ্যুৎ। যার মূল্য ৩-৫ টাকার বেশি নয়। সৌর চুলাটি তৈরি করতে খরচ হবে ১৪ হাজার টাকার মতো। আর নিশ্চিন্তে চুলাটি ১০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে।