দাউদপুরের কোনারচরে নববধূর মৃত্যুকে ঘিরে ধ্রুম্যজাল, গ্রেফতার ৪

দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি :

 

দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানাধিন দাউদপুর ইউনিয়নের কোনারচর গ্রামে এক নববধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র ধ্রুম্যজাল সৃষ্টি হয়েছে। এটা হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। নিহত নববধূ কোনারচর গ্রামের আব্দুল লতিফের পুত্র আবুল হোসেনের স্ত্রী শারমিন আক্তার শাম্মী। সে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার নিজগাঁও চেলারচক গ্রামের আব্দুল আজিজ চুনু মিয়ার কন্যা।
জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল বুধবার বিকালে শাম্মী তার স্বামীর বাড়িতে পারিবারিক কলহের জের ধরে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে বিষ পান করে। স্বামীর বাড়ির লোকজন বিষ পানের পর শাম্মীকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাম্মী পরে দিন ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন। গত ১২ তারিখ শুক্রবার ময়না তদন্ত শেষে রাত ১১টায় স্বামীর বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে নিহত শাম্মীর পিতা আব্দুল আজিজ চুনু মিয়া গত ১২ শুক্রবার রাতে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মোগলাবাজার থানায় একটি হত্যার মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন শারমিন আক্তার শাম্মী আত্মহত্যা করেনি। স্বামীর বাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করেছে।
অভিযোগের পরপরই মোগলাবাজার থানা পুলিশ শাম্মীর শ^শুড় আব্দুল লতিফ, শাশুড়ী মরিয়ম বেগম, স্বামী আবুল হোসেন, তার ভাই আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করে। গতকাল ১৩ এপ্রিল শনিবার তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
জানা যায়, তারা একে অপরকে ভালবাসার মাধ্যমে উভয় পরিবারের সম্মতি ছাড়াই গত ৩ মাস পূর্বে আবুল হোসেন শারমিন আক্তার শাম্মীকে বিয়ে করেন। পরিবারের সম্মতি না থাকায় বেশি কিছু দিন তাদেরকে বাড়ী বাইরে থাকতে হয়েছে। সম্প্রতি বিষয়টি মেয়ের পরিবার ও ছেলের পরিবারের মধ্যে আপোষ মীমাংসা হলে আবুল হোসেন শারমিন আক্তার শাম্মীকে বাড়ীতে আসেন।
শাম্মীর স্বামীর পরিবারের লোকজন জানা, শাম্মী অভিমান করে বিষ পানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। আমরা তাকে বাঁচানের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারিন।
শাম্মীর পিতা জানান, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। যৌতুকের দাবীতে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মোগলাবাজার থানা ওসি আব্দুল কাইয়ুম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ৪জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।