দেড় বছরের শিশুর পেটে মিললো ‘ভ্রূণ’

বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মায়ের কোলে শিশু দেবনাথ মাঝি। ছবি: সংগৃহীত

জটিল অস্ত্রোপচার করে দেড় বছর বয়সী একটি শিশুর পেট থেকে বের করা হয়েছে ‘ভ্রূণ’!‌ চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলে ‘‌ফিটাস ইন ফিটু’‌। সাধারণত পাঁচ লক্ষ শিশুর মধ্যে এই ধরনের ঘটনা একটি ঘটে। শিশুটিকে নিয়ে বিশ্ব জুড়ে গবেষণা চলছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ভারতের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আশ্চর্যজনক এই ঘটনাটি ঘটেছে।

ওই শিশু নাম দেবনাথ মাঝি। বয়স এক বছর আট মাস। বাড়ি বীরভূমের নানুরে। তার বাবা বলরাম মাঝি ও মা লক্ষ্মীদেবী। সফল অস্ত্রোপচারের পর শিশুটি এখন সুস্থ আছে। তবে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বর্ধমান মেডিকেলের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ নরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘পেটের যন্ত্রণা নিয়ে গত ২৩ মার্চ বাচ্চাটিকে তার বাবা–মা চিকিৎসার জন্য মেডিকেলের আউটডোরে নিয়ে আসেন। তাকে দেখার পর আমার একটু সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি করে নেওয়া হয়। তারপর নানা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে তার সিটি স্ক্যান করানো হয়। তাতেই ধরা পড়ে তার পেটে আর একটি ভ্রূণ আছে। এদিন অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে ভ্রূণটি বের করা হয়েছে।’

নরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় আরো বলেন, ‘চিকিৎসা পরিভাষায় এই রোগের নাম ফিটাস ইন সিটু। পাঁচ লক্ষ শিশুর মধ্যে এই ধরনের ঘটনা একটি ঘটে। এই নিয়ে পরপর আমি তিনটি এই ধরনের অপারেশন করেছি। তার মধ্যে একটি কলকাতা মেডিকেলে, আরেকটি এর আগেও বর্ধমান মেডিকেলেই একটি করেছিলাম। আসলে এটাও একটি ভ্রূণ। মায়ের পেট থেকে দুটি ভ্রূণ পরিপক্ব হওয়ার কথা। কিন্তু একটি পরিপক্ব না হওয়ায় আর একটা ভ্রূণের মধ্যে ঢুকে যায়। এটা খুবই বিরল ঘটনা। প্রায় ১০ জন মিলে আমরা অস্ত্রোপচারটি সফল করতে পেরেছি।’‌