পবিত্র শবে মেরাজ আগামীকাল বুধবার

:: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী ::

যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে আগামীকাল বুধবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে মেরাজ উদযাপিত হবে বুধবার দিন পেরিয়ে রাতের আঁধার নামলেই আবির্ভাব ঘটবে এক অলৌকিক, অসামান্য, মহাপূণ্যে ঘেরা রজনী। এ রজনী মহাপবিত্র মহিমান্বিত লাইলাতুল মে’রাজের। আমাদের ‘প্রিয় নবী’ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াতের একাদশ বর্ষের ২৬ রজবের দিবাগত গভীর নিশিথে মহান আল্লাহর খাস রহমতে হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালামের সাথে পবিত্র কাবা হতে ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরে ফিলিস্তিনে অবস্থিত পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্তাকাশের উপর সিদরাতুল মুনতাহা, অত:পর সত্তর হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে আরশে আজিমে মহান আল্লাহ তা’য়ালার দিদার লাভ করেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন। মেরাজকালে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টি জগতের সমস্ত কিছুর রহস্য অবলোকন করেন। এ রাত অতি পবিত্র ও মহান আল্লাহ তা’য়ালার অফুরান রহমত-বরকত-মাগফিরাতে সমৃদ্ধ।

আরবী শব্দ মে’রাজ অর্থ উর্ধারোহণ। এ মেরাজের বড়দাগে অর্থ দাঁড়ায়-সপ্তম আসমান, সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন ও ধনুক কিংবা তার চে’ কম দূরত্বে আল্লাহ তা‘য়ালার নৈকট্য পর্যন্ত ভ্রমণ। এ ছিল আল্লাহ তায়ালার মহান কুদরত, অলৌকিক নিদর্শন, নবুয়তের সত্যতার স্বপক্ষে এক বিরাট আলামত, জ্ঞানীদের জন্য উপদেশ, মোমিনদের জন্য প্রমাণ, হেদায়েত, নেয়ামত, রহমত, মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্যে হাযির হওয়া, ঊর্ধ্বলোক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন, অদৃশ্য ভাগ্য সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান লাভ, ইহকাল ও পরকাল সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, স্বচক্ষে জান্নাত-জাহান্নাম অবলোকন, পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণের সাথে সাক্ষাৎ ও পরিচিত হওয়া, সুবিশাল নভোমণ্ডল পরিভ্রমণ করা, এবং সর্বোপরি এটিকে একটি অনন্য মু‘জিযা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা। এই রাত্রিতে উম্মতে মুহাম্মাদীর প্রতি ৫ ওয়াক্তের নামাজ ফরজ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ‘মেরাজ’। মেরাজ ইসলামের ইতিহাসে এমনকি পুরা নবুওয়াতের ইতিহাসেও এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। কারণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া অন্য কোন নবী এই পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। আর এ কারণেই হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্ব শ্রেষ্ঠ নবী।

এ মেরাজ রজনীতেই মানব জাতির শ্রেষ্ঠ ইবাদত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরয হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় মুসলিম জাহানের সঙ্গে এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও আগামীকাল রাতে পবিত্র শবে মেরাজ পালন করবেন। এই রাত্রিতে উম্মতে মুহাম্মাদীর প্রতি ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। ফলে এটা খুবই ফজিলতের রাত্রি। অতএব এই রাত্রিতে যতদূর সম্ভব জেগে নফল নামাজ, জিকির-আযকার, কোরআন শরীফ তিলওয়াত দরুদ শরীফ ও মিলাদ শরীফ ইত্যাদি পাঠ করা এবং নফল নিয়তে দিবা ভাগে রোজা রাখা ভাল, এগুলো ব্যাতীত এই রাত্রে অন্য কোন প্রকার শরীয়ত বিরোধী রুসম-রেওয়াজে লিপ্ত হওয়া যাবে না। আর যেহেতু এই রাতের তোহফা ৫ ওয়াক্ত নামাজ তাই বেশি বেশি নফল নামাজ পড়ে শুকরিয়া আদায় করা। শবে মেরাজের ইবাদত সম্পর্কে হাদিস শরীফে উল্লেখ রয়েছে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) ও সালমান ফারসী (রা.) থেকে বর্ণিত, নিঃসন্দেহে রজব মাসে এমন একটি মহান দিন ও রাত রয়েছে, কোন মোমিন যদি ঐদিনে রোযা রাখে ও রাতে নামাজে মশগুল থাকে, তার প্রতিদান হবে যেন সে একশ বছর দিনে নফল রোযা ও রাতে নফল নামাজ পড়েছে। সেই মহান রাতটি হলো রজবের সাতাশতম রাত। (গুনিয়াতুত্বালিবীন)।

তবে এ রাতকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করা, কিতাবুল আওরাদে বর্ণিত আছে এই রাত্রে বার রাকয়াত নামাজ পড়িবে, যেরূপ ইচ্ছা ছুরা মিলাইয়া পড়িবে। নামাজ শেষ হইলে একশতবার কলিমা তামজীদ, একশতবার দরূদ শরীফ ও একশতবার এছতেগফার পড়িবে,পরে সেজদার মধ্যে গিয়া যেই দোয়া প্রার্থনা করিবে সেই দোয়াই কবুল হইবে। ঐ দিনে রোজা রাখিলে বহুত সওয়াব পাইবে। হযরত আবু ছাইদ খুদরী রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহু হইতে বর্ণিত আছে হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন, যখন রজব মাস আসিত, তখন তিনি পড়িতেনঃ আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শা’বান ওয়া বাল্লিগনা ইলা শাহরি রামাদান। হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন ইন্না ফিল জান্নাতি নাহরান ইউকালু লাহু রাজাবুন ওমা উহা আশাদ্দু বিয়াদিন ফামান ছামা ইয়াওমা রাজাবি ছাখাহুল্লাহু মিন জালিকান নাহরি অর্থঃ নিশ্চয় বেহেশতের মধ্যে একটি নদী আছে উহাকে রজব বলে। উপহার পানি অত্যান্ত সাদা। যে ব্যক্তি রজবের মাসে রোজা রাখিবে তাহাকে আল্লাহ তায়ালা এই নদীর পানি পান করাইবেন। সেই পানি মধু অপেক্ষা সুস্বাদু ও বরফ অপেক্ষা শীতল। তিনি ইহাও বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি রজব মাসে রোজা রাখিবে, সেই ব্যক্তিকে দোযখের আগুনে দগ্ধ করা হইবে না। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে আমল করার তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন।

প্রিন্সিপালঃ- শাহজালাল রহ, ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট।