মুক্তি পেয়ে আরো কঠিন পরীক্ষায় অভিনন্দন

অভিনন্দনের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। ছবি: টুইটার

অভিনন্দন বর্তমান নামে ভারতীয় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার মুক্তি পেলেও তাকে অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে নিজ দেশে। সামনের কয়েকদিন তাকে এই পরীক্ষা দিতে হবে। কারণ এটাই ভারতের সেনাবাহিনীর নিয়ম।

পাকিস্তানে তিন দিন আটক থাকার পর শুক্রবার রাত ৯টার পর ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে অভিনন্দনকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়। নিজ দেশে ফিরলেও এখনো তাকে পরিবারের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। মুক্তি পাওয়ার পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিমান বাহিনীর গোয়েন্দাদের কাছে।

ভারতের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে বলা হয়, উইং কমান্ডার অভিনন্দনের বক্তব্যে বিশ্বাস রাখতে পারছেন না সেনা কর্তারা। সে জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। শুধু তাই নয়, অভিনন্দনের মানসিক পরীক্ষা করা হবে। সেই সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে কোনও তথ্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে তিনি ফাঁস করেছেন কিনা। এছাড়া ইনজেকশনের মাধ্যমে তার রক্তে কোনও রাসায়নিক পদার্থ প্রবেশ করানো হয়েছে কিনা সেটাও পরীক্ষা করা হবে।

পাইলট অভিনন্দনকে এখন দিল্লিতে সেনাবাহিনীর আর আর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সেখানে তার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরীক্ষা করা হচ্ছে। মুক্তি দেয়ার আগে পাকিস্তান এমন কোনও ‘চিপ’ অভিনন্দনের শরীরে বসিয়ে দিয়েছে কিনা তা জানার চেষ্টা করা হবে। পরীক্ষা শেষে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে মনোবিদের কাছে মানসিক পরীক্ষার জন্য। হাসপাতালের কাজ শেষে তাকে ভারতের সেনা কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

বন্দি থাকা অবস্থায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে কোনও আপস প্রস্তাব দিয়েছিল কি না, কিংবা তাকে ব্যবহার করে কোনো চক্রান্ত করেছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে গোয়েন্দাদের তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে অভিনন্দনকে। সেই সঙ্গে পাকিস্তানে তার তিনটা দিন কিভাবে কেটেছে সেটারও প্রতি মুহূর্তের বর্ণনা গোয়েন্দাদের কাছে দিতে হবে।

অভিনন্দন পাক সেনাদের কাছে আটক থাকাকালীন কী কী জরুরি নথি নষ্ট করতে সক্ষম হয়েছিলেন, আর কী কী পারেননি, তারও তালিকা তৈরি করবে ভারতীয় গোয়েন্দা। সেনাবাহিনীর রিপোর্ট সন্তোষজনক না হলে অভিনন্দনকে জেরা করতে নিয়ম ভেঙে ডাকা হতে পারে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) এবং রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইংয়ের কর্মকর্তাদের।

এই সব অগ্নিপরীক্ষায় নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট প্রমাণ করতে না পারলে যুদ্ধবিমান আর চালাতে পারবেন না অভিনন্দন।

উল্লেখ্য, ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে আকাশে লড়াই করে ভারতের দুটি বিমান গুলি ভূপাতিত করার দাবি করে পাকিস্তান। এর একটি পড়ে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে, অন্যটি পড়ে ভারতীয় অংশে।

যে বিমানটি পাকিস্তানের সীমানার মধ্যে ভূপাতিত হয় সেটির পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার অভিনন্দন। বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর অভিনন্দন প্যারাসুট নিয়ে নিচে নেমে আসেন। এসময় তাকে আটক করে স্থানীয় তরুণরা। পরে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে।