নির্বাচনী অনিয়ম নিয়ে মামলা থেকে পিছু হটলো বিএনপি

নির্বাচনী অনিয়ম নিয়ে মামলা থেকে পিছু হটল বিএনপি। ছবিঃ ইত্তেফাক।

অনলাইন ডেস্ক

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর ভোটে বড় মাত্রায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তবে শেষ পর্যন্ত মামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে গেছে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট।

‘বিদ্যমান বাস্তবতায় ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে না’— দলের সিনিয়র আইনজীবীদের এমন মতামত আমলে নিয়েই পিছু হটলো বিএনপি। গতকাল ছিল হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা রুজু করার শেষ দিন। তবে কোনো প্রার্থী অভিযোগ নিয়ে সেখানে যাননি।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশে নির্বাচনের নামে যে তামাশা ও ভোটের আগের রাতে ভোট ডাকাতি হয়েছে তা প্রতিটি মানুষ জানে। বিশ্ববাসী জানে। এই নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে মামলা করে কি আমরা ন্যায়বিচার পাব? বরং মামলা দিলে উল্টো রায় আসতে পারে আদালত থেকে বা বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা মামলা করছি না। কারণ, এ নির্বাচনে কী হয়েছে, দেশের মানুষ সবই জানে। এখানে মামলা করে কোনো লাভ নেই। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে আমরা সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখলাম কার কাছে মামলা করব? তিনি বলেন, তবে কেউ নিজ উদ্যোগে মামলা করতে চাইলে পারবেন, তাকে বাধা দেওয়া হবে না।

দলের দায়িত্বশীল একজন সিনিয়র নেতা জানান, নির্বাচনের অনিয়মের পর্যাপ্ত দালিলিক প্রমাণ ও চিত্র আমাদের হাতে আছে। সকল প্রার্থী তাদের এলাকার নির্বাচনী বিরূপ পরিবেশ ও অনিয়মের চিত্র আমাদের কাছে দিয়েছেন। কিন্তু, বিচার বিভাগের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। তাই দলীয়ভাবে আমরা মামলায় যাচ্ছি না। তবে অনিয়মের সব তথ্য জাতিকে জানাতে তথ্য-প্রমাণসহ একটি বই প্রকাশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিও ফুটেজের সিডিও প্রস্তুত করা হচ্ছে। এগুলো দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। নানাভাবে কাজে লাগানো হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিষয়ে আইনজীবী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, আদালত থেকে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে না বরং আইনিভাবে ৩০ ডিসেম্বরের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। তাদের পরামর্শ এবং নানা বিবেচনায় ট্রাইব্যুনালে মামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বিএনপি।

তবে ঢাকা-৬ আসনের পরাজিত প্রার্থী গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী জানান, তিনি গত সোমবার হাইকোর্ট ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট শাখায় ফাইল জমা দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ আসনের ফলের গেজেট ২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হয়। আর ৩ জানুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।