Main Menu

দ্বীনের এক বীর সৈনিক হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী

কামরুল ইসলাম চৌধুরী

 

সৎ নিষ্ঠাবান বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী সাহেব হাজার হাজার হাফিজগণের উস্তাদ তিনি সারাটি জীবন ইসলামের খেদমত করেছেন ও মানুষকে সু পথের সন্ধান দিয়েছেন তিনি বিভিন্ন মাদ্রাসা মসজিদের দায়িত্ব আদায় করেছেন ও বিভিন্ন সামাজিক কর্ম ও সামাজিক সংগঠনের দায়িত্বরত ছিলেন। তার মধ্যে উল্লেখ আছে তিনি সাবেক, ইমাম ও খতিব হযরত দরিয়া শাহ রহ, মাজার জামে মসজিদ কদমতলী সিলেট। সাবেক, ইমাম ও খতিব তৈয়ব কামাল জামে মসজিদ দক্ষিণ সুরমা সিলেট। সাবেক, প্রধান শিক্ষক হযরত শাহজালাল রহ, লতিফিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট। তিনি কার্যকরী সদস্য আবদে বারী হুফ্ফাজুল কোরআন বোর্ড বাংলাদেশ। কার্যকরী সদস্য বাংলাদেশ আনঞ্জুমানে আল ইসলাহ জকিগঞ্জ উপজেলা শাখা। প্রশিক্ষণ সম্পাদক বাংলাদেশ আনঞ্জুমানে আল ইসলাহ সিলেট মহানগরীর ২২নং ওয়ার্ড শাখা সিলেট। প্রিন্সিপাল, শাহজালাল রহ, ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সভাপতি, জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। উপদেষ্টা, জকিগঞ্জ ফ্রেন্ডস ক্লাব। উপদেষ্টা, জকিগঞ্জ নাগরিক পরিষদ। পৃষ্ঠপোষক, ধ্রুবতারা সাহিত্য পরিষদ সিলেট। সিলেট প্রভৃতি সংগঠনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী জকিগঞ্জ উপজেলা দুধরচক গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। যার ভালোবাসায় সিক্ত হাজারো যোদ্ধা, যার নেই কোনো কৃপণতা, যার চোখে নেই কোনো প্রতিহিংসার ছোয়া, যার বুকে নেই কোনো ভালোবাসার কমতি, যার বুকের মধ্যে রয়েছে শুধু ভালোবাসার এক নীল নদী, যার সাহসীকতায় হার মানাবে বাতিলের হাজারো অপশক্তি, যার মধ্যে বিরাজমান সুন্নিয়তের দীপ্ত মশাল, যা বাতিল জ্বলে হবে ছারখার, গর্জে উঠবে সুন্নিয়তের তলোয়ার, তার’ই এক জলন্ত প্রমাণ হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী সাহেব। এমন মানুষ যদি আজ বাংলার ঘরে ঘরে জন্ম নিতো তাহলে সেই বাংলা সোনার বাংলা বলে উপনীত হতো। যার কাছে আমি পবিত্র কোরআন শরীফ তেলাওয়াত শিখেছি।

যখন হুজুরের কাছে পড়তাম তখন দেখতাম হুজুর না খেয়ে আমাদেরকে খাওয়াতেন ও নিজের সন্তানের মতো আদর করতেন একদিন হুজুরের কাছে কোন টাকা নেই কোন খরচ ও নেই মাগরিবের নামাজ পড়ে হুজুর আমাদের সকলকে কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করার জন্য বলছেন আর হুজুর নামাজ শেষ করে উনার বিছানায় গিয়ে আস্তে আস্তে কাঁদিতেছেন আমি আস্তে আস্তে গিয়ে দেখি হুজুর কাঁদতে ছেন আর আস্তে আস্তে আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন আল্লাহ আমিতো কোরআন শরীফ বাচ্চাদের কে পড়াইতেছি যদি আপনার মনশা হয় আমাকে ও আমার ছাত্রদের কে উপাশ তাকলে আপনি খুশি হলে আমিও খুশি এ ভাবে হুজুর বলতেছেন কিছু সময় পর হুজুরের কাছে একজন মকবুল পীর সাহেব ফোন দিলেন হুজুর যাওয়ার জন্য হুজুর পীর সাহেবের কাছে যাওয়ার পর হুজুরকে পীর সাহেব বল্লেন কী হয়েছে তোমার এতো চিন্তা করো কেন ইসলামের জন্য কতো কষ্ট করতে হয় ধৈর্য ধারণ করো আল্লাহ সাহায্য করবেন বলে পীর সাহেব হুজুরকে কিছু টাকা দিয়ে বল্লেন যাও তাড়াতাড়ি হুজুর পীর সাহেবের কাছ থেকে তাড়াতাড়ি আসিয়া পীর সাহেব যে টাকা দিয়েছেন সেই টাকা দিয়ে খরচ নিয়ে নিজ হাতে পাক করে আমাদের সকলকে খাওয়ালেন। সুবহানাল্লাহ।

আমার মতো হাজারো ছাত্র পবিত্র কোরআন শরীফ মুখস্থ করে আজ সেই ছাত্রর রা বিভিন্ন মাদ্রাসা মসজিদের দায়িত্ব আদায় করেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সেই মহান ব্যক্তি আমার শ্রদ্ধাভাজন হুজুরের কাছাকাছি হয়ে কিছুটা উপলব্ধি করতে পেরে আজ নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে। এভাবে কি হতে পেরেছি নাকি পারবো আমরা, তিনি এমন একজন মানুষ যা বুঝতে পারলাম। যার মধ্যে নেই কোনো লোভ লালসা, নেই কোনো আমিত্বের অহংকার, নেই কোনো পদবীর অহংকার, শুধুই রয়েছে নিঃসার্থ আর নিরলস ভাবে খোলোসিয়তের সাথে দীনের কাজ করে যাওয়া। আর আজ আমরা ব্যস্ত আমাদের আমিত্ব আর ক্ষমতা নিয়ে।

পরিশেষে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে ফরিয়াদ করি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন এই দীনের খাদেম আমার প্রিয় উস্তাদের নেক হায়াত দান করেন। মহান আল্লাহ তায়ালা যেনো আমাকে সহ মুসলিম উম্মাহকে নিঃসার্থের সহিত জীবন ও আমাদের কর্মকে চালিয়ে যাওয়ার তৌফিক দান করেন আল্লাহুম্মা আমিন ছুম্মা আমিন।

লেখক- কামরুল ইসলাম চৌধুরী, মোবাইল-০১৬৮৪২১৮০৯৬






Related News

Comments are Closed